বাদশাহী বার্তা রিপোর্ট।। এবারের এস এস সি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল প্রত্যয় হাজারী।আর কয়েকদিন, পরেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার কথা।প্রাণচ্ছ্বল, হাসিখুশি,বন্ধু প্রিয় প্রত্যয় বাবা মায়ের অতি আদরের ধন,প্রতিবেশীদের পরম স্নেহের স্বজন,বন্ধুদের প্রিয়মুখ,শিক্ষকদের আদরের শিক্ষার্থী, ডানপিটে প্রত্যয় বন্ধুদের নিয়ে মিলেমিশে চলাচলে অভ্যস্হ, এক সাথে বন্ধুরা মিলে হৈ হুল্লোর করে আনন্দ প্রকাশের মহাক্ষেএ বিনির্মান করা প্রত্যয় হারিয়ে গেছে।প্রত্যয় অনন্তকালের যাএী, ধবধবে, সুশ্রী , সুদর্শন, মায়াবী প্রত্যয়ের মৃত্যুতে সব বন্ধুরা বাকরুদ্ধ।বন্ধুরা সব অবলীলায় অশ্রুপাত করছে,প্রতিবেশীদের হৃদয়ে চলছে রক্তক্ষরন,আর বাবা মা তো পাগল প্রায়, পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা কঠিন আর ভারী বোঝা বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ।আর সেই গর্বের, আদরের আর শ্রেষ্ঠ ধন নিজ পুএের লাশ বাবার কাঁধে। এ যেন এক মৃত্যু যন্ত্রনা কে হার মানানো বজ্রকটিন শক্তির সাথে পাঞ্জা লড়া। হ্যাঁ সেই শব যাএা এবং সন্তানের মৃতদেহ কাঁধে নেওয়ার চরম কঠিন আর বহন অযোগ্য কাজ করলেন বাবা প্রবীর হাজারী। পৃথিবী হতে চিরতরে বিদায় নেওয়া প্রত্যয় হাজারীর মৃত্য দারুন ভাবে নাড়া দিয়েছে শত সহস্র মা বাবাকে।প্রত্যয়রা সকলের, সকল বাবা মায়ের, সবে মাএ কিশোরের গণ্ডি পার হওয়ার মুহুর্ত, যে বয়সে দুরন্তপনার ডালা মেলে বন্ধুদের সাথে খেলবে, এস এস সি পাশ করে কলেজে পড়বে, সে কিশোর কালেই না ফেরার দেশে চলে গেলো প্রত্যয়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিয়র গ্রামের নাথ পাড়ার প্রবীর হাজারীর পুএ প্রত্যয়। বাবা প্রবীর হাজারীর চাকুরীর সুবাদে দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া গ্রামে বসবাস। পারুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষর্থী হিসেবে পারুলিয়ার জনমানুষের অতি প্রিয়পাএে পরিনত হয় হারিয়ে যাওয়া প্রত্যয়। গত কয়েক বছর যাবৎ তাদের বসবাস পারুলিয়ায়।বাবা প্রবীর হাজারী পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) হিসেবে কর্মরত। কাজ পাগল আর অতি মিশুক ও দায়ীক্তশীল যে কারনে পারুলিয়ার জনসাধারন প্রত্যয়ের বাবাকে প্রিয়জন হিসেবে বেঁছে নিয়েছেন। তিন দিন পূবে,সেদিন দিন ছিল মঙ্গলবার অন্যদিনের ন্যায় প্রত্যয় পারুলিয়ার বাসা বাড়ী হতে মোটর সাইকেল নিয়ে বের হয় আর এই বের হওয়া তার শেষ বের হওয়া।তরতাজা, হাসিখুশি কিশোর বাড়ী হতে মোটরসাইকেল নিয়ে দেবহাটার পাঁচপোতা ঘলঘলিয়া সড়ক বেয়ে কাজ মিটিয়ে ফেরার সময়ে জোমদূত তাকে তাড়া করে সড়কে বাইকের চাকা পিছলে নিয়ন্ত্রন হারালে মূহুর্তে মাথা মুখ গাছে ধাক্কা লাগলে মারাত্নক আহত হয়।প্রথমে সখিপুর হাসপাতালে, সেখান হতে সাতক্ষীরা মেডিকেলে তারপর খুলনা প্রতি স্হানে চিকিৎসকরা অবস্হা গুরুতর বলতে থাকে।পরেরদিন বুধবার রাজধানী ঢাকায় নেওয়ার পথে জীবন প্রদীপ নিভে যায় সকলের প্রিয় প্রত্যয়ের।মূহুর্তে খবর ধুলিয়ার ও পারুলিয়ায় পৌছালে সৃষ্টি হয় শোকাহত পরিবেশ।পারুলিয়ার বিপুল সংখ্যক জনমানুষ ছুটে যায় ধুলিয়র নাত পাড়ায়।প্রত্যয় পারুলিয়ার মানুষের রক্তের কেউ না কিন্তু রক্তের চাইতেও কোন অংশে কম নয়।নাথপাড়ার মহাশ্নশানে প্রত্যয়ের অন্তেষ্ট্রিক্রীয়া আয়োজন স্হলে পারুলিয়ার বিপুল সংখ্যক মানুষ কেবল উপস্হিত ছিলে না নিরবে আবার অনেকে প্রকাশ্যে অশ্রুপাত করেছে।প্রত্যয়রা সকলের, আমাদপর সন্তান,ভাই এবং অন্যানয় সম্পর্কের তারা কেন সড়কে প্রান হারাবে? বা সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যাবে? এই বয়স, এই সময়, এই মূহুর্ত, পরিস্হিতি বা বাস্তবতা তাদের কে বাইক, মোবাইল দিতে বলে বা বাধ্য করে। অভিভাবকদের কে সতর্ক হতে হবে।সব ইচ্ছা পুর করতে হবে এমন নয়।একটি মৃত্যু একটি পরিবারের আজীবন কান্না হতে দেওয়া যাবে না। প্রত্যয় তুমি শুধু প্রবীর পাজারীর পুএ নও, হাজারী পরিবারের সন্তান নও, তুমি প্রতিজন পিতা মাতার সন্তান। তোমাকে হারিয়ে তাই অশ্রুপাতের শেষ নেই। পরপারে তুমি ভাল থেকো।
সংবাদ শিরোনাম:
প্রত্যয় হাজারীর মৃত্যু কাঁদিয়েছে শত সহস্র মা বাবাকেঃ কাঁদছে সহপাঠি,প্রতিবেশি, স্বজনঃ প্রতিনিয়ত মৃত্যুমুখে প্রত্যয়রা,কিন্তু কেন?
-
রিপোর্টার - আপডেট সময়: ০৫:১২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- ৪৩২ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস:
জনপ্রিয় সংবাদ











