বাদশাহী বার্তা ডেস্ক।।ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে পিটুনীতে নিহত দেবহাটার পারুলিয়ার বড়শান্তা গ্রামের ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের( ৪০) লাশ গতকাল বুধবার রাতে পারিবারীক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।এর পূর্বে গত মঙ্গলবার রাতে শামীম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ধর্ম অবমাননাকরেছে এমন অভিযোগে তারবসতবাড়ীতে হামলা এবং পরবর্তিতে কুলিয়া ও সখিপুর স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স এর অভ্যন্তরে তাকে পটুনি দিলে অবস্থার অবণতি হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তবরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। মঙ্গলবার বিভিন্ন সূএ ও তার স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কিচুটা মানসিক ভাবে অসুস্হ শামীম তার স্ত্রী নাজমা খাতুনের সাথে গোলযোগ করে এক পর্যায়ে তার স্ত্রী আহত হলে পিএালয়ে গেলে শামীম বিষপানের মাধ্যমে আত্নহত্যার চেষ্টা করে। পরিবারের সদস্যরা শামীম কে কুলিয়ায় সবুর ডাক্তারের নিকট নিলে বিষমুক্ত চিকিৎসা শুরু করলে উক্ত ডাক্তার চেম্বারে চিকিৎসারত শামীম কে পিটুটি দেয় উত্তেজিত লোকজন।দেবহাটা পুলিশ খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ লোকজনের হাত হতে রক্ষা করে সখিপুর হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং পুলিশ ও আনসার প্রহরায় তার চিকিৎসা শুরু হয়। রাত দশটার পরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তেজিত লোকজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সখিপুর হাসপাতালে চিকিৎসারত শামীম কে গণপিটুনি দিতে থাকে।এ সময় পুলিশ প্রতিরোধ করার আপ্রান চেষ্টা করে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগী সহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।গনপিটুনিতে শামীমের অবস্হা চরম অবণতি হলে তাক সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পারুলিয়ার বড় শান্তা গ্রামের মরহুম শামছুর রহমানের পুএ শামীম বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বচ্চ ডিগ্রীধারী গত কয়েক বছর যাবৎ সে মানসিক ভাবে অসুস্হ হওয়ায় হটাৎ বাড়ী হতে চলে যাওয়া, হোটেলে মেসিয়ারী করা, ভাইদের সাথে গোলযোগ করা,বারবার স্ত্রীর সাথে গোলযোগ করা সহ বিভিন্ন ধরনের বেহিসেবী কর্মকাণ্ড করে আসছিল।মঙ্গলবার স্ত্রীর সাথে গোলযোগের সময় ধর্ম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুবূতিতে আঘাত করেএবং তা বাড়ীর পাশ থেকে মোবাইল ফোনে ধারন করা হলে তা প্রচার হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং জনসাধারন ক্ষুব্ধ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি অডিও কথোপকথনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। সেসব কথোপকথনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন মন্তব্য শোনা যায়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর গত সোমবার সন্ধার পরে শামীমের বাড়ীতে হামলার ঘটনা ঘটে।শামীমের স্ত্রী নাজমা খাতুন বলেন, গোলযোগের পর আমার পিতার সাথে পিতার বাড়ীতে আসি। পরে ফোনে জানতে পারেন, তার স্বামী বিষপান করেছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। রাত ১১টার দিকে তিনি স্বামীর মৃত্যুর খবর পান। তিনি আর ও বলেন আমার স্বামীর মানসিক ভাবে অসুস্হ হলে গোলযোগ করতো।শামীমের ভাই খলিলুর রহমান বলেন, আমার ভাই মানসিক রোগী সে বাড়ীতে স্ত্রীর সাথে গোলযোগের সময় ধর্মীয় অবমাননা হয় এমন কথা বলেছে বলে শুনেছি।আমি মুসলিম হিসেবে তা সমর্থন করি না। কিন্তু চিকিৎসার অধিকার না দেওয়া পিটিয়ে হত্যা করা কোন ধরনের মানবতা? এবং ধর্মীয় বিধান এমনটি কি সমর্থন করে? আমার ভাইয়ের বিচার হোক, বিচারে তার ফাসি হোক আমাদের দুঃখ নেই। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেওয়া হলো এবং একজন মানসিক রোগী কে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া কালীন এলোপাতাড়ি ভাবে পিটিয়ে মারা হলো। তিনি আর ও বলেন স্হানীয় একটি রাজনৈতিক দলের স্হানীয় নেতা কর্মি ও কুলিয়া ইউনিয়নের কতিপয় লোকজন আমাদের বাড়ীতে হামলা করলে পরিবারের সদসয়া পালিয়ে যাই। নিহতের অপর ভাই ও বিএনপির স্হানীয় নেতা আবদুল জলিল বলেন, শামীম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালে কয়েক বছর আগে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিলেন। তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে আনার পর থেকে তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করতেন বলে জানান আবদুল জলিল। তার অভিযোগ, সোমবার রাতে শামীমের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের নেতারাও ও কর্মিরা উক্ত হামলায় অংশ নেন। পরে শামীম আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাকে কুলিয়ার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে নেওয়া হয়। এরপর তাকে দুই দফায় মারধর করা হয়। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক যুবকের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
শিরোনাম:
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গণ পিটুনিতে নিহত শামীমের লাশ দাফন
-
রিপোর্টার - আপডেট সময়: ০৯:১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- ১৭৩ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস:
জনপ্রিয় সংবাদ

















